ব্লগ সাইট শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি ধাপ

স্বাগতম, এই পোস্টে আমি আলোচনা করতে যাচ্ছি কিভাবে খুব সহজে একটি নতুন Blog বানাবেন এবং ব্লগ সাইট বানানোর সকল খুটিনাটি বিষয় এই পোস্টে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

ব্লগ হলো অনলাইন ভিত্তিক ব্যক্তিগত সংবাদ মাধ্যম। একটি ব্লগ এর কাঠামো এবং কাজের ধরন নির্ভর ব্লগের নির্মাতার উপর। তাই আপনি যদি একটি ব্লগ সাইট চালু করেন তবে সেখাবে আপনি আপনার পছন্দসই সকল বিষয়ের উপর কাজ করতে পারবেন।

একটি ব্লগ সাইট বানাতে হলে কিছু অবকাঠামো দরকার হয় সেগুলো হলোঃ

  1. ব্লগ সাইট চালানোর মানসিকতা
  2. ব্লগের Content Type নির্বাচন করা
  3. কন্টেন্ট নিয়ে গবেষণা করা এবং নিত্যনতুন আপডেট জানা
  4. Domain বাছাই
  5. অনলাইন স্টোরেজ
  6. ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশন
  7. থিম বাছাই
  8. ব্লগ সাইটের জন্য প্লাগিন বাছাই
  9. সাইটে পাঠক আকৃষ্ট করা
  10. নিয়মিত তথ্য আপডেট রাখা

নিচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ব্লগ সাইট চালানোর মানসিকতা

আপনার মাথায় প্রায়ই আসতে পারে ব্লগ সাইট চালানো খুব সহজ এবং এতে ভালো পরিমাণ উপার্জনের সুবিধা রয়েছে তাই আপনি একটি ব্লগ সাইট চালু করতে চাইলেন৷ কথায় আছে যুদ্ধ জয় করার চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা কঠিন তেমনি ব্লগ সাইট চালু করা থেকে maintain অনেক জটিল। নিয়মিত আপনাকে ডাটাবেইজ, থিম, প্লাগিন আপডেট রাখতে হবে৷

যেকোনো অনলাইন সমস্যার হাত থেকে সাবধানে থাকতে আপনার একাউন্ট পাসওয়ার্ড আপডেট করতে হবে৷ যা কিনা খানিকটা জটিল কাজ৷ তাই আপনাকে অবশ্যই শক্ত মানসিকতা রাখতে হবে যে আমি ব্লগ সাইট চালাবোই নয়তো আপনি ব্লগ এর মাধ্যমে বেশি দূর এগোতে পারবেন না।

ব্লগের Content Type নির্বাচন করা

যদি আপনি মন মানসিকতা ঠিক করেই রাখেন আপনি ব্লগ বানাবেন তাহলে আপনাকে ব্লগের Content বাছাই করতে হবে যেই বিষয়ের উপর আপনার ব্লগ হবে। এই কন্টেন্ট নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারন একটি সঠিক বিষয় আপনার ব্লগকে করতে পারে Super Hit অন্যদিকে কন্টেন্ট ভুল হলে আপনার ব্লগ হবে Super Flop।

তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনি কি টপিকের উপর আপনার ব্লগ বানাবেন?
ব্লগের টপিক নির্ধারণ হবে একান্তই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। আপনি যেই বিষয় পছন্দ করেন কিংবা যেই বিষয়ে আপনি দক্ষ সেই বিষয়ের উপর আপনার ব্লগ বানালে আপনি সাফল্য পাবেনই কারন টপিক যদি আপনার পছন্দের হয় তাহলে আপনি সেই বিষয়ের উপর স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

অপরদিকে আপনি যদি এমন কোনো টপিক বেছে নেন যা  আপনার পছন্দের বাহিরে যেমন আপনার পছন্দ প্রযুক্তি কিন্তু ব্লগ বানালেন ভ্রমণ কিংবা স্বাস্থ্যসেবার উপর তাহলে আপনার ব্লগে একসময় কন্টেন্ট ভাটা পড়বে তখন আপনি আর কিছুই করতে পারবেন না৷ তাই ব্লগের Content Topic হতে হবে আপনার পছন্দের ভিত্তিতে এখানে কোনো জোর খাটানো চলবে না।

Domain বাছাই

ব্লগের কন্টেন্ট বাছাইয়ের পর আপনাকে আপনার ব্লগ অনলাইন করার প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে যা হলো আপনার কন্টেন্ট টপিকের সাথে মানানসই একটি ডোমেইন ক্রয় করা। বাজারে বিভিন্ন ধরনের Top Level Domain পাওয়া যায়।

উল্লেখযোগ্য Top Level Domain এর কাজের ধরন এখানে দেওয়া হলোঃ

  • .com ঃ এই টপ লেভেল ডোমেইন সকল ধরনের সাইটের সাথেই মানানসই, কিন্তু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে করা সাইটে কিংবা ব্লগের জন্য অধিক কার্যকর।
  • .co ঃ এই ডোমেইন ব্যবহার করা হয় কোম্পানির প্রচার ও প্রসারের জন্য।
  • .org ঃ এই ডোমেইন মূলত অলাভজনক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • .tech ঃ প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ হলে এই টপ লেভেল ডোনেইন ব্যবহার করতে পারেন।
  • .live ঃ আপনার ব্লগে কোনো কাজের লাইভ আপডেট প্রদান করে থাকলে এই ডোমেইন হবে আপনার ব্লগের জন্য আদর্শ।
  • .net ঃ এই Top level domain যেকোনো প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • .shop ঃ ক্রয় বিক্রয় সম্পর্কিত ব্লগের জন্য এই ডোনেইন ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • .code ঃ প্রোগ্রামিং ব্লগ হলে এই ডোমেইন আপনার জন্য উপযোগী।
  • .health, .dental ঃ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ব্লগ হলে এই দুটি ডোমেইন হবে যথোপযুক্ত।
  • .com.bd, .bd ঃ আপনার ব্লগ যদি শুধু কোনো দেশের মানুষের জন্য হয়ে থাকে তবে আপনি সেই দেশের সরকার প্রদত্ত ডোমেইন ব্যবহার করতে পারেন, যেমন বাংলাদেশ সরকার BTCL(Bangladesh Telecommunication Company Limited) দ্বারা .com.bd, .bd এসকল ডোমেইন বিক্রি করে এগুলো শুধু বাংলাদেশের উপর ভিত্তি করে বানানো। তাই শুধু বাংলাদেশের ভিত্তিতে আপনার ব্লগ হলে এই ডোনেইন ব্যবহার করতে পারেন।

এগুলো হচ্ছে Mainstream বা মূলধারার কিছু টপ লেভেল ডোমেইন। এগুলো ছাড়াও প্রায় ৪০০ অধিক ডোনেইন আপনি বাজারে পেয়ে যাবেন। Namecheap থেকে আপনি এসব ডোমেইন খুব কম মূল্যে পেয়ে যাবেন সেই সাথে সেখানে Coupon সুবিধা রয়েছে যা আপনার ডোমেইন খরচ খানিকটা কমিয়ে দিবে।

অনলাইন স্টোরেজ বা হোস্টিং বাছাই

আপনার ব্লগের জন্য ডোমেইন নেবার পর আপনার সামনে সময় আসবে আপনার ব্লগকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা, যার জন্য আপনাকে Cloud storage বা ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে।

Web Hosting বাছাইয়ের সময় কিছু দরকারি সুবিধা অবশ্যই আপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের আছে কিনা সেগুলো যাচাই করে নিতে হবে। যেমনঃ

  • Server Uptime ঃ আপনি যে কোম্পানি থেকে আপনার হোস্টিং নিবেন সেই কোম্পানির সার্ভার uptime বা সার্ভার দিনে কত সময় লাইভ থেকে সেই তথ্য জেনে নিবেন৷ যদিও কোনো হোস্টিং সার্ভার ১০০% Uptime দিবে না কারন তাদের সার্ভার রক্ষনাবেক্ষবের একটি বিষয় রয়েছে সেক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন ৯৫-৯৯% uptime সার্ভার বেছে নিতে।
  • Hosting Loading Speed ঃ আপনার হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার যত শক্তিশালী হবে আপনার সাইট তত দ্রুত লোড হবে। কিভাবে আপনার ওয়েবসাইট স্পিড বাড়াবেন তা জেনে আসতে পারেন।
  • Customer Support ঃ যদি আপনার ওয়েব হোস্টিং এ কোনো প্রকার সমস্যা হয় তখন customer support অনেক জরুরি, কারন যত দ্রুত আপনি সাপোর্ট পাবেন তত দ্রুত আপনার সাইট এক্টিভ হবে।
  • Server Location ঃ আপনার হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার লোকেশন কোথায় সে কি আপনার জানা থাকতে হবে, কারণ আপনি যেই দেশকে টার্গেট করে ব্লগ তৈরি করবেন সেই দেশে যদি আপনার হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার থাকে তবে আপনার ব্লগ ওই দেশের মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছাবে এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলো দ্রুত র‍্যাংক করবে। আপনি বাংলাদেশের জন্য সাইট বানালে আপনাকে BDIX সার্ভার নিতে হবে৷ এতে করে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় আপনার সাইট খুব দ্রুত লোড হবে।

এসকল দিক যাচাই-বাছাই করে আপনাকে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশন

ব্লগ সাইটের জন্য বর্তমানে  WordPress অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব CMS সফটওয়্যার। ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা যেমন একাধিক ফ্রী থীম ইনস্টলেশন, বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন

যেমনঃ seo plugin, website monitor plugin, security plugin, website backup plugin, contact plugin ইত্যাদি। এসব প্লাগিন ব্যবহার করে কোন প্রকার কোডিং দক্ষতা ছাড়াই একটি ব্লক খুব সুন্দর ভাবে তৈরি করা যায়। তাই ব্লগ সাইট শুরু করলে অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন এতে করে লম্বা সময় সুবিধা পাবেন।

থিম বাছাই

ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস সফটওয়্যারে বিভিন্ন ধরনের বাছাই করার সুবিধা রয়েছে। একটি ব্লগের জন্য তিন বাছাই করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করতে হবে।

  1. থিম responsive কিনা।
  2. থিম লোডিং স্পিড কেমন।
  3. থিমে একাধিক সাইড বার যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে কিনা।
  4. থিম Customization এ ড্রপ ডাউন সুবিধা রয়েছে কিনা।

এসকল সুবিধা সম্বলিত থিম আপনার ব্লগের জন্য ব্যবহার করলে এটি আপনাকে এবং আপনার ব্লগের পাঠকদের খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা দিবে।

ব্লগ সাইটের জন্য প্লাগিন বাছাই

ওয়ার্ডপ্রেসে বিভিন্ন ধরনের নাগিন সুবিধা রয়েছে। এসকল প্লাগিন ব্যবহার করলে আপনার সাইটে অনেক ধরনের সুবিধা যোগ করা সম্ভব। যেমনঃ

  • ব্লগকে Search Engine Optimized করা যাবে।
  • ব্লগে খুব সন্দর User Interface যক্ত করা যাবে।
  • ব্লগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।
  • ব্লগের থিমে যেকোনো ধরনের Customization কঅরা যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের গুগোল ব্যবহৃত কিছু প্লাগিন হলোঃ Contact Form 7, JetPack, Yoast SEO, WP Rocket, AntiSpam, Auto SSL, Image Optimizer, Visitor Tracker etc.

সাইটে পাঠক আকৃষ্ট করা

নতুন ব্লগে পাঠক খুব স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকবে। কিন্তু আপনার ব্লগের কন্টেন্ট যদি মান সম্পন্ন এবং সময়োপযোগী হয় তবে ব্লগের পাঠক খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

পাঠক বাড়ানোর জন্য কিছু ফিচার যুক্ত করতে পারেন আপনার ব্লগেঃ

  • প্রতিনিয়ত নতুন এবং মজাদার কন্টেন্ট যুক্ত করা
  • একাধিক লেখক রাখা
  • বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে লেখা-লেখি করা
  • সর্বোপরি আপনার ব্লগ সাইটকে বিভিন্ন Search Engine এ সংযুক্ত করা। এতে করে যখন আপনার ব্লগের পোস্ট search engine এ রেংক করবে তখন সেখান থেকে অটোমেটিক অনেক পাঠক আসবে

নিয়মিত তথ্য আপডেট রাখা

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে “If You Continue to Hard work Success will Follow You” এর মানে আপনাকে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে তাহলে সাফল্য আপনাকে ধরা দেবে।

একইভাবে যেকোনো ব্লগের পোস্ট যত নতুন তথ্য যুক্ত হবে সেই পোস্ট পাঠকদের দ্বারা তত ভালো সাড়া পাবে। আর সকলেই এখন আপডেট থাকতে চায় তাই আপনার ব্লগকেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর আপডেট করতে হবে।

 

এই ১০ টি দিক বিবেচনা করে আপনার ব্লগ সাইট চালু করলে আশা করি সাফল্য পাবেন। আর কখোনো হাল ছাড়বেন না কারন Failure is the pillar of success.