কিভাবে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করুন এবং লোডিং স্পিড বাড়াবেন?

কোনো ব্লগ বা ওয়েবসাইট ওয়েব ব্রাউজারে সম্পূর্ণ লোড হতে যে সময় নিয়ে থাকে সেই সময়কে সেই ওয়েব পেইজের লোডিং স্পিড বলে।

কোনো ওয়েবপেইজের লোডিং স্পিড নির্ভর সেই ব্লগ বা ওয়েবসাইটের অবকাঠামোর উপর। যেই ওয়েব পেইজের অবকাঠামো মান যত উন্নত সেই পেইজ তত দ্রুত যেকোনো ব্রাউজারে লোড হতে পারবে। এই পোস্ট আমি আপনাদের সাথে সেয়ার করব ওয়েবপেইজ লোডিং স্পিড কতোটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি আপনার নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট কিভাবে অপটিমাইজ করে তার লোডিং স্পিড বাড়াবেন অর্থাৎ আপনার সাইটের লোডিং সময় কমাবেন।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট লোডিং স্পিডের গুরুত্ব

যে সাইট যত দ্রুত তার পাঠকদের নিকট তথ্য প্রদর্শন করতে পারবে সেই সাইটে বা ব্লগে পাঠক তত স্বাচ্ছন্দ্যে ব্রাউজিং করতে পারবে। এতে করে সেই সাইটের উপর পাঠকদের একটি আস্থা জন্মায় এবং ব্লগের পাঠক সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ে। তাই ব্লগের পাঠক বাড়াতে ওয়েবপেইজ দ্রুত লোড হওয়ার বিকল্প নেই।

প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিন সেই সকল ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটকে প্রাধান্য দেয়, যে সকল ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুব দ্রুত তাদের ডাটা প্রদর্শন করতে পারে। ওয়েবপেইজ লোডিং স্পীড একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে। তাই ব্লগ নিয়ে সুদূর পরিষদ চিন্তাভাবনা থাকলে অবশ্যই আপনার ব্লগের দ্রুত লোড হওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কিভাবে আপনি ওয়েবসাইট খুব দ্রুত লোড করতে পারেন এবং ব্লগের লোডিং স্পীড বাড়াতে পারেন সেই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করা হলো যেগুলো আমি নিজে আমার ব্লগ techpriyo.com এ ব্যবহার করে থাকছি। আশা করি এগুলো আপনার কাজে লাগবে এবং এই সকল টিপস গুলো কতটুকু কার্যকরী সেটা নিচে আমার ব্লগের স্পিড টেস্ট এর স্ক্রিনশট এবং ভিডিও দিয়ে দেখানো হয়েছে।

টেকপ্রিয় সাইটের লোডিং স্পিড এর প্রমাণ দেখে নিন

স্ক্রিনশট ঃ

Live webpage speed test video ঃ

এই ভিডিওতে টেকপ্রিয় ব্লগের একটি পোস্টের google webpage speed test এর Android এবং কম্পিউটার এর লোডিং স্পিড লাইভ ভিডিওতে দেখানো হলো।

এই রেজাল্ট আসার একমাত্র কারন হলো আমি নিচের সকল টিপস ফলো করেছি। আপনি যদি নিচের সকল ধাপগুলি অনুসরণ করেন তাহলে আপনার ওয়েবপেইজ স্পীড টেকপ্রিয় এর মতো বা আরো ভালো ১০০/১০০ হতে পারে।

থিম অবশ্যই responsive হতে হবে

যেকোনো ধরনের ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি ওয়েবসাইটের থিম, এটি যত সহজ সরল হবে সাইটের লোডিং স্পিড তত বাড়বে।

responsive থিম মূলত সেই সকল CMS থিম যা কিনা ওয়ার্ডপ্রেস এর মতো ওয়েব সফটওয়্যার এ ব্যবহৃত হয়ে থাকে একং এসকল থিম Android এবং কম্পিউটার যেকোনো ধরনের যেকোনো সাইজের মনিটরে খুব সুন্দর করে সকল Widget দেখাতে সক্ষম হয়। একটি ভালো সাদামাটা থিক এখনকার সময় সাইটের র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে অনেক সহায়তা করে। তাই আপনি চেষ্টা করবেন আপনার ব্লগের জন্য এমন থিম ব্যবহার করতে যেগুলোর Side-bar একের বেশি না হয়ে থাকে এবং সবসময় নিজের বানানো থিম অথবা কোনো বিশ্বস্ত কোম্পানির CMS থিম ব্যবহার করবেন।

অতিরিক্ত widget ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেকে তাদের ওয়েবসাইটে সাইডবারে একাধিক widget ব্যবহার করে অনেক ধরনের অপ্রয়োজনীয় ফিচার দেখাচ্ছে যেমন অনেকে widget এ ফেইসবুক কিংবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া embed করে দিচ্ছে এতে করে সাইটে লোডিং হতে অতিরিক্ত ডেটা লাগে এবং সাইট স্লো হয়ে যায়৷ তাছাড়া অনেকে ব্লগের সুন্দর্য বাড়ানোর জন্য নানারকম প্যাটার্ন  widget এর মাধ্যমে যুক্ত করে থাকে, যা একদমই জঘন্য। আপনাকে মাথায় রাখা উচিৎ, ব্লগ বা ওয়েবসাইট নান্দনিকতা দিয়ে নয় মানসম্মত কন্টেন্ট দিয়ে চলে।

তাই সাইটে অতিরিক্ত Widget যুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

সাইটে অযথা প্লাগিন ব্যবহার করবেন না

প্লাগিন হচ্ছে এমন কিছু সফটওয়্যার যা ওয়ার্ডপ্রেস সাইট গুলোতে ইনস্টল করা যায়। এসকল প্লাগিন সাইটের বিভিন্ন কাজ যেমনঃ থিম কাস্টমাইজেশন, এসইও সহ অনেক ধরনের কাজে সাহায্য করে৷ কিন্তু অতিরিক্ত প্লাগিন ব্যবহার মানে আপনার সাইটের Back End এর ফাংশন বেড়ে যায় এতে করে সাইট অটোমেটিক গতি হারায়। তাই আমার অভিজ্ঞতা মতে সাইটে কন্টাক্ট প্লাগিন, এসইও প্লাগিন ব্যতীত অন্য কোনো প্লাগিন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এই দুই ধরনের প্লাগিন সাধারন ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের জন্য যথেষ্ট।

থিম-প্লাগিন সবসময় আপডেট রাখবেন

ওয়ার্ডপ্রেস থিম ও প্লাগিন বানানো হয় PHP, JS, HTML এর সমন্বয়ে। কিছুদিন পরপর এ সকল থিম, প্লাগিন ডেভেলপাররা আপডেট করে পুরাতন Bug ঠিক করে এবং যদি নতুন PHP ভার্সন আসে তবেও থিম, প্লাগিন আপডেট করে৷ আর তখন যদি থিম প্লাগিন আপডেট না করা হয় তাহলে আপনার সাইটের ধীর গতিতে ফাংশন করতে থাকে। এর ফলে ব্লগ ব্রাউজারে লোড হতে স্বাভাবিকের থেকে খানিকটা বেশি সময় নেয়।

তাই সবসময় চেষ্টা করবেন আপনার থিন প্লাগিন আপডেট রাখতে। এতে সাইটের লোডিং হতে কম সময় নেয় এবং ব্লগ লোড স্পিড বেড়ে যাবে।

অতিরিক্ত CSS, Javascript ব্যবহার করা যাবে না

যেকোনো ব্লগ বা সাইটকে আকর্ষনীয় করতে css এবং javascript ব্যবহার করা হয়। css, javascript ব্যবহার করে ওয়েবপেইজ এ বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখানো যায় এতে করে হয়তো কিছু পাঠকের তা ভালো লাগতে পারে কিন্তু এর ফলে পেইজের লোডিং স্পিড কমে যায় এবং সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং অনেক কমে যায়।

অপ্রয়োজনীয় css, javascript এর ব্যবহারের ফলে ব্লগের ব্যান্ডওইথ খরচও বেড়ে যায়। তাই অযথা ব্লগ বা ওয়েবসাইটে দরকারের বেশি কোনো ধরনের CSS, Javascript ব্যবহার করা যাবে না।

image অবশ্যই অপটিমাইজ করে ব্যবহার করবেন

একটি ওয়েবপেইজ এর সবচেয়ে বেশি bandwidth ব্যবহার করে ওই পেইজের ছবি। কারন একটি HQ ছবি ব্রাউজারে লোডিং হতে খানিকটা সময় নেয়। এতে করে ব্লগের লোডিং টাইম বেড়ে যায়।

এখন ইন্টারনেটে অনেক Image Compression টুল পাওয়া যায়। যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবির কোয়ালিটি না কমিয়ে সাইজ কমিয়ে দেয়। এসকল কম্প্রেসড ছবি ব্যবহার করলে লোডিং টাইম কমে যায়। তাই যদি আপনি ব্লগে ছবি ব্যবহার করতে চান অবশ্যই ছবি কম্প্রেস করে ব্যবহার করা উচিৎ।

ডাটাবেইজ cache করে রাখবেন

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন তবে আপনি হয়তো জানেন, আপনার সাইটের সকল তথ্য ডাটাবেইজ এ জমা থাকে এবং যখন পাঠক যেই পাতায় যায় সেই পাতার তথ্য ডাটাবেইজ থেকে খুজে তা পাঠকের ব্রাউজারে প্রদর্শন করে।

Database Cache হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা চালু থাকলে পাঠক তার ব্রাউজার দিয়ে আপনার ব্লগে প্রবেশ করলে আপনার ব্লগের তথ্যগুলো সেই ব্রাউজারে ক্যাশ আকারে জমা থাকবে। পরবর্তীতে যদি পাঠব আবার আপনার ব্লগে প্রবেশ করে তবে সেই তথ্য নিমিষেই তার ব্রাউজারে ভেসে উঠে তখন পাঠক ভাববে আপনার সাইট খুব দ্রুত লোড হয়। এতে করে সকল সার্চ ইঞ্জিনেও আপনার ব্লগ খুব ভালো স্কোর করার সম্ভাবনা রয়েছে।

CDN ব্যবহার

CDN এর পূর্ণরূপ হলো Content Delivery Network । এই সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য আপনাকে আপনার ডোনেইন Name server সেই CDN কোম্পানির একাউন্টে টার্গেট করে রাখতে হয়। এতে করে সেই cdn এর শক্তিশালী সার্ভারে আপনার সাইটের সকল পেইজ cache হয়ে থাকবে যখনি কেউ আপনার ব্লগের url এ প্রবেশ করবে তখনি সেই CDN এর শক্তিশালী cache server থেকে পাঠকের ব্রাউজারে আপনার ব্লগ দেখা যাবে। এতে করে আপবার ব্লগের লোডিং স্পিড বেড়ে যাবে। এছাড়া কোনো সময় যদি আপনার মেইন হোস্টিং সার্ভার ডাউন হয়ে যায় তখন সেই CDN আপনার সাইটকে লাইভ দেখাবে।

Cloudflare হচ্ছে সবচেয়ে বড় Content Delevary Network (CDN) কোম্পানি। আপনি চাইলে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর জন্য তাদের ফ্রি সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এতে করে আপনার ওয়েবপেইজ লোডিং স্পিড ২০-৩০% বেড়ে যাবে।

 

আমি নিজে এসকল টিপস টেকপ্রিয় ব্লগে ব্যবহার করায় দেখতেই পাচ্ছেন আমার সাইটের স্পীড কত ভালো হয়েছে৷ আপনি যদি এসকল ধাপ অবলম্বন করেন তবে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পিড ভালো করতে পারবেন।