ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি A to Z টিউটোরিয়াল

ইন্টারনেট এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বা একাধিক তথ্য বহুল পাতার সমন্বয়কে ওয়েবসাইট বলে

ওয়েবসাইট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন ঃ News Website, Blog Website, Cooking Website, Fitness Website, Tech Website এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট হতে পারে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আনা হয়।

ওয়েবসাইট শুরু করার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ জানা থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরী করা খুব সহজ হয়ে যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে গেলে যেসকল বিষয় জানতে হবে ঃ

  1. ওয়ার্ডপ্রেস কী?
  2. ওয়েবসাইট তৈরি করতে ওয়ার্ডপ্রেস কেন?
  3. ওয়ার্ডপ্রেস এর সুবিধা
  4. প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
  5. ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের নিয়ম কানুন

আসুন এখন একে একে এসকল বিষয় জানি এবং উদাহরণ স্বরূপ একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী করি।

ওয়ার্ডপ্রেস কী ?

ওয়ার্ডপ্রেস হলো PHP প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা  এক ধরনের Online CMS সফটওয়্যার, যা ওয়েবসাইট বানানো এবং তা রক্ষনাবেক্ষনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

WordPress CMS এই ওয়েবসাইট বানানোর সফটওয়্যার প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। তখন বাজারে আসার সাথে সাথেই তা Blogger, Website Developer দের মাঝে সাড়া ফেলে দেয় এর অত্যাধুনিক সুবিধা সমূহ দিয়ে। তখন থেকে বর্তমানে ২০২১ সালে এসেও ওয়ার্ডপ্রেস তার সাফল্য ধরে রেখেছে।

ওয়ার্ডপ্রেস এই দশকের বহুল ব্যবহৃত Website Building সসফটওয়্যার। ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বানাতে কোনো প্রকার কোডিং দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। অল্প কিছু টাকায় একটি অনলাইন ওয়েব হোস্টিং এবং একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম কিনে আপনিও কোনো কোডিং দক্ষতা ছাড়া ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে ওয়ার্ডপ্রেস কেন?

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কোনো প্রকার প্রোগ্রামিং ভাষা দক্ষতা ছাড়া ওয়েবসাইট বানানো যায় তাই ওয়েবসাইট তৈরী করতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন।

এছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের অনেক Plugin যেগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইটকে প্রোফেশনাল এবং User Friendly করা সম্ভব।

ওয়ার্ডপ্রেস এর সুবিধা সমূহ

ওয়ার্ডপ্রেস এর অনেক সুবিধার মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের প্রধান ৫ টি সুবিধা হলো ঃ

  1. কোডিং জানা লাগে না
  2. রক্ষণাবেক্ষণ সহজ
  3. SEO Friendly
  4. ওয়েবসাইটের সিকিউরিটির জন্য রয়েছে Plugin
  5. ওয়েবসাইট Customization করা খুবই সহজ

এগুলো হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস এর কিছু বেসিক এবং প্রধান সুবিধা।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

ওয়ার্ডপ্রেস একটি অনলাইন ভিত্তিক Website Building Software তাই এটি চালাতে এবং এর সুযোগ সুবিধা সঠিকভাবে নিতে কিছু সরঞ্জাম আবশ্যক।

কম্পিউটার / মোবাইল ঃ ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট হতে অবশ্যই একটি কম্পিউটার অথবা একটি ভালো স্মার্ট ফোনের দরকার হবে। এরপরই আপনি একটি ওয়েবসাইট বানাতে সক্ষম হবেন।

ডোমেইন ঃ যেকোনো ওয়েবসাইট ইন্টারনেট দিয়ে খুজে বের করতে হলে ডোমেইন দরকার। এই ডোমেইন হচ্ছে যেকোনো ওয়েবসাইট এর নাম। তাই যেকোনো ওয়েবসাইট শুরু করতে গেলে সবার আগে ডোমেইন দরকার।

হোস্টিং ঃ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বা একাধিক তথ্য বহুল পাতার সমন্বয়কে ওয়েবসাইট বলে। তাই এই ওয়েবপাতা গুলোকে অনলাইন করতে হোস্টিং প্রয়োজন।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগিন ঃ ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ডিজাইন এবং তথ্য সঠিকভাবে দেখাতে ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন আরেকটি জরুরি সরঞ্জাম।

এসকল উপাদান থাকলে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের নিয়ম

প্রবাদ আছে, স্বাধীনতা অর্জন সহজ কিন্তু রক্ষা করা কঠিন

একইভাবে ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরী করা সহজ কিন্তু ব্যবহার বা রক্ষণাবেক্ষণ খানিকটা জটিল। সেজন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে।

  1. প্রথমত একটি ভালো ওয়েব হোস্টিং ক্রয় করতে হবে যেন সেই হোস্টিং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের uptime, speed ভালো দেয়। হোস্টিং এর জন্য EasyWP, Namecheap অঅত্যন্ত ভালো সেবা দিচ্ছে।
  2. অবশ্যই SSL Certificate ব্যবহার করতে হবে। কারন ssl certificate ওয়েন ব্রাউজারকে বলে আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষিত কিনা।
  3. আপনি কোডিং না জাননে ভালো এবং বিশ্বস্ত কোম্পানি থেকে wordpress theme, wordpress plugin নিতে হবে।
  4. নিয়মিত ওয়েবসাইটের থিম, প্লাগিন আপডেট রাখতে হবে।

এসকল নিয়ম-কানুন মেনে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট থাকবে সুরক্ষিত এবং ব্যবহারে কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না।

লাইভ ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী

উপরের তথ্যগুলো ভালো করে পড়ে থাকলে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস কী? ওয়ার্ডপ্রেস এর সুবিধা,  ওয়ার্ডপ্রেস সঠিকভাবে ব্যবহারের উপায়ও জেনে গিয়েছেন। তাহলে এবার একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী করার পালা।

এখন আপনি দেখতে পাবেন কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়? কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস থিম আপলোড করতে হয়? কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন আপলোড করতে হয়? কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে সঠিকভাবে কন্টেন্ট লিখতে হয়?

আপনি যদি CPanel ওয়েব হোস্টিং নিয়ে থাকেন তবে প্রথমে আপনাকে cPanel এ লগিন করে নিতে হবে।

এবার আপনি cPanel এ দেখতে পাবেন WordPress নামক একটি অপশন রয়েছে।

WordPress অপশনে প্রবেশ করলে ওয়ার্ডপ্রেস CMS ইন্সটল করার অপশন চলে আসবে।

এবার ওয়েবসাইটের Domain সিলেক্ট করতে হবে। আমি demo ওয়েবসাইট বানাচ্ছি তাই একটি সাব-ডোমেইন ব্যবহার করছি।
এরপর ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য admin username, admin password দিয়ে ইন্সটলেশন সম্পন্ন করতে হবে।

ইন্সটলেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ওয়েবসাইটের Home Url এবং Admin Panel Url পাওয়া যাবে।

Admin Panel Url এ এডমিন username, password দিয়ে লগিন করলে চলে আসবে WordPress Dashboard

ড্যাশবোর্ড এর Settings অপশনে পেয়ে যাবেন ওয়েবসাইট এর URL চাইলে আপনি ওয়েবসাইট এর Home page এর url পরিবর্তন এর মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারেন। সেই সাথে Date, Time, User পরিবর্তন এবং নতুন করে যুক্ত করা যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস Dashboard এ Plugun, Appearance নামক দুইটি দুইটি অপশন রয়েছে।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন

ওয়ার্ডপ্রেস Dashboard এর Appearance অপশনে থিম কাস্টমাইজেশন অথবা থিম আপলোড এর সুবিধা রয়েছে।

যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন করতে জানেন তাহলে আপনার পছন্দমত তা কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। অন্যথায় আপনি আপনার ওওয়েবসাইট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ওয়ার্ডপ্রেস থিম ক্রয় করে তা আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে আপলোড করতে পারেন।

ওয়েবসাইটের জন্য সঠিক ওয়ার্ডপ্রেস থিম বাছাইয়ের নিয়ম ঃ

  • ব্লগিং ওয়েবসাইট হলে অবশ্যই Simple Design থিম ব্যবহার করতে হবে।
  • যেকোনো ধরনের সাইটের জন্য Mobile Friendly ওয়ার্ডপ্রেস থিম অত্যাবশ্যক।
  • ওয়ার্ডপ্রেস থিম যেন অধিক CSS, Javascript ফাংশন যুক্ত না হয় তা বিবেচনায় রাখতে হবে। কারন অধিক CSS, Javascript ফাংশন ওয়েবসাইটের৷ loading time বাড়িয়ে দেয়।
  • ওয়ার্ডপ্রেস থিম অবশ্যই কোম্পানির লাইসেন্স যুক্ত হতে হবে। এতে করে আপনার ওয়েবসাইট অধিক সুরক্ষিত হবে এবং যেকোনো ধরনের অসাধু ব্যক্তি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

এসকল বিষয় বিবেচনায় এনে সেরা ৫ ওয়ার্ডপ্রেস থিম হলোঃ

  1. Generatepress ( Multi Purpose)
  2. Astra ( Blog )
  3. Neve ( Multi Purpose)
  4. Newspaper X ( Multi Purpose)
  5. Focus Blog ( Micro Website )

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট যেই ক্যাটাগরির হোক আপনি এই থিম গুলো থেকে যেকোনো একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম বেছে নিন। এর ওয়ার্ডপ্রেস থিম গুলো Fast Loading, Responsive, Search Engine Optimized, Usee Friendly তাই আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য যেকোনো একটি থিম ব্যবহার করা উত্তম হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন

Plugin হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস এর বিশেষ সুবিধা। প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট করে তুলা সম্ভব Super Fast, User Friendly, Attractive UI, SEO Optimized এবং আরো অনেক কাজের প্লাগিন রয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য।

যদি কোনো ওয়েবসাইটে অধিক কোড কিংবা প্রোগ্রাম যুক্ত করা হয় তবে তার সাইজ বেড়ে যাবে এতে করে লোডিং স্পিড কমে যাবে এবং লোডিং টাইম বেড়ে যাবে। যা ব্যবহারকারী এবং র‍্যাংকিং এ প্রভাব ফেলে। তাই চেষ্টা করতে হবে অযথা কোনো প্লাগিন যেন install না হয় ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি প্লাগিনঃ

  1. Classic Editor
  2. Jetpack
  3. Seo Plugin
  4. Contact Form 7
  5. Really Simple SSL

Classic Editor : কনটেন্ট লেখার জন্য classic editor সবচেয়ে ভালো প্লাগিন। এই প্লাগিন দিয়ে HTML এবং Visual ভাবে আপনার কনটেন্ট লিখতে পারবে এবং সুন্দর মতো সাজিয়ে ঘুছিয়ে লিখতে পারবেন। তাই এটি প্লাগিন লিস্টে ১ম।

Jetpack : ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের সুরক্ষা, ভিজিটর কাউন্ট করা, image optimization এর জন্য jetpack অত্যন্ত দরকারি একটি প্লাগিন।

Seo Plugin :  যেকোনো ওয়েবসাইট ততক্ষণ অসম্পূর্ণ থাকে যতক্ষন না সাইটটি র‍্যাংক করে। এর র‍্যাংকিং এর জন্য সাহায্য করে SEO plugin. অনেক seo plugin আছে সবগুলোই প্রায় একইভাবে কাজ করে। তাই আপনার পছন্দের যেকোনো প্লাগিন ব্যবহার করলেই চলবে।

Contact Form 7 :  ওয়েবসাইটের একটি প্রধান পাতা হলো Contact পাতা। আর আপনি যদি কোডিং না জানেন তবে এই প্লাগিন থেকে অটোমেটিক কন্টাক্ট পেইজ বানিয়ে তা যেকোনো পেইজে পাব্লিস করে দিলে তা দিয়ে ভিজিটর যেকোনো দরকারে আপনাকে মেইল করতে পারবে।

Really Simple SSL :  ওয়েবসাইটের সুরক্ষাকে কোনো ভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না। এই প্লাগিন ব্যবহার করলে SSL Certificate সঠিক ভাবে ইন্সটল হয়েছে কিনা, যদি হয়ে থাকে তাহলে ওয়েবসাইটের সকল HTTP রিকোয়েস্ট HTTPSredirect করা এই প্লাগিন এর কাজ। তাই এটিও একটি অত্যাবশকীয় প্লাগিন।

একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী করতে এসকল তথ্য যথেষ্ট। তাই আপনার জন্য একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরী করার সকল তথ্য এই পোস্টে দেওয়া আছে।