৩০ হাজার টাকার সেরা গেমিং ফোন ২০২১

এক সময় গেমিং শব্দটি শুনলে আমাদের মনে হতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, হাই গ্রাফিক্স, 7th জেনারেশন প্রসেসর, ৪২ ইঞ্চি মনিটর। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এ ধারণাটি একদম পাল্টে গিয়েছে নতুন নতুন মোবাইল গেম এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোবাইল ফোন বাজেটের মধ্যে চলে আসায়। এই নতুন মোবাইল ফোনের পারফরম্যান্স সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার উন্নত মানের হওয়ার কারনে গেম খেলে এক অসাধারণ অনুভূতি আসে যা একসময় শুধুমাত্র কম্পিউটারে সম্ভব ছিল।

বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের লো বাজেট থেকে শুরু করে মিড বাজেট এবং ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ডিভাইস বাজারে আনছে। যাদের  বাজারমূল্য ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ১ লক্ষ টাকা অবধি। আজকে আমি আপনাদের ৩০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং ডিভাইস নিয়ে একটি ধারণা দিতে চেষ্টা করব। আশা করি পুরো পোস্ট পড়ার পর আপনি আপনার জন্য বাজেটের মধ্যে বাজারের সেরা গেমিং ফোন পেয়ে যাবেন।

গেমিং ফোন কী?

যেসকল মোবাইল ফোনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর, গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয় এবং অধিক processing ক্ষমতাসম্পন্ন গেম খেলা যায় সেসকল মোবাইল ফোনকে গেমিং ফোন বলা হয়।

একটি মোবাইল ফোনকে গেমিং ফোন হতে হলে এর কিছু Hardware এবং Software দক্ষতা আকতে হবে।

যেমনঃ প্রসেসর হতে হবে 4 Core বিশিষ্ট, এবং 5-7 nanometer এর, এবং RAM হতে হবে 6GB+ একই সাথে ব্যাটারি ব্যাকআপ 8 ঘন্টা থাকতে হবে। এসকল সুবিধা সম্বলিত যেকোনো ফোন গেমিং ফোনের  আওতায় পড়ে।

এরই পরিপেক্ষিতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে বাজারে আসা মোবাইল ফোনের মধ্যে সেরা ৫ টি গেমিং ফোনের তালিকা দেওয়া হলো। এসকল মোবাইল ফোন ৩০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে সেরা ফোন বলে আমার কাছে বিবেচ্য।

৩০ হাজার টাকার সেরা ৫ গেমিং ফোন ২০২১ঃ

  1. POCO X3 NFC
  2. Samsung M32
  3. Samsung A22
  4. POCO X3 Pro
  5. Xiaomi Redmi Note 10S

এই তালিকার প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম বাংলাদেশে অফিশিয়ালি ৩০ হাজারের মধ্যে। এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া মোবাইল গুলোর মধ্যে ৩ টি Xiaomi  এবং ২ টি মোবাইল বিশ্ব বিখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি Samsung এর।

৩০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে বাজারে অনেক স্মার্ট ফোন থাকলেও আমার কাছে এই পাঁচটি মোবাইল গেমিং এর জন্য সেরা মিনে হয়েছে।

এই তালিকা করা হয়েছে মোবাইল ফোনগুলোতে থাকা হার্ডওয়ার যেমনঃ Processor, Storage, RAM, Display, Battery backup এবং Software Optimization এর ভিত্তিতে।

নিচে এসকল আলোচ্য বিষয় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করা হলো।

গেমিং ফোন হতে হলে কি কি যোগ্যতা বা Specifications থাকতে হবে?

যেসকল স্মার্ট ফোনের processing power বেশি সেসকল ফোনকে গেমিং ফোন বলা হয়।

বর্তমান সময় এমন অনেকেই রয়েছে যেগুলো lag-free, Smoothly ভাবে খেলতে অনেক ফোনের বারোটা বেজে যায়। তাই এসকল গেইমের কথা মাথায় রেখে মোবাইল ফোনের specification এ আনা হয়েছে আমুল পরিবর্তন, গত ৩-৫ বছর আগে একটি দামি কম্পিউটারে যেসকল কনফিগারেশন দেওয়া হতো এখন তা স্মার্ট ফোনে দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে heavy duty গেম অনায়াাসে খেলা যায়।

একটি স্মার্ট ফোনকে গেমিং ফোন হতে গেলে যেসকল যোগ্যতা বা Specifications থাকা আবশ্যক সেগুলো হলোঃ

Internal Storage

যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসে Internal Storage বা মেমোরি নির্ধারণ করে থাকে ওই ডিভাইস কি পরিমাণ Data বা তথ্য তার মধ্যে store করতে পারবে।

যে ডিভাইসের তথ্য ধারণ ক্ষমতা যত বেশি সে ডিভাইস তত বেশি তথ্য নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। এর উপর নির্ভর করে সেই স্মার্ট ফোনটির প্রসেসর কি পরিমাণ তথ্য নিয়ে একসাথে কাজ করতে পারবে।

তাই যেই মোবাইলের internal storage যত বেশি হবে সেই ডিভাইসে তত বড় এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন গেইম install করা সম্ভব হবে এবং ওই ফোনটি গেমিং ফোন আখ্যায়িত হবার জন্য ১ ধাপ এগিয়ে যাবে।

RAM

RAM এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Random Access Memory 

অর্থাৎ এই মেমোরি মোবাইল ফোনের তাৎক্ষনিক মেমোরি হিসাবে কাজ করে যেখানে মোবাইল স্ক্রিনে চালু থাকা যেকোনো অ্যাপ, গেইম সেই মেমোরি ব্যবহার করে তার সকল সক্ষমতা ব্যবহারকারীর নিকট তুলে ধরে।

RAM যদিও খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হয় তবুও এর ভূমিকা মোবাইল ফোনকে গেমিং ফোনে রূপ দিতে ২য় দরকারি উপাদান। র‍্যাম সাধারণত ২-৮ জিবি হয়ে থাকে।

কিন্তু Asus ROG-3 মডেলের ফোনে ১২ জিবি RAM দেওয়া হয়েছে, যদিও এটি এক অনন্য উদাহরণ। আর এই পোস্টে আমি আপনাদের দেখালাম ৩০০০০ টাকা বাজেটের গেমিং ফোন তাই এর র‍্যাম এই ব্যজেটে সর্বোচ্চ ৬ জিবি পেয়ে থাকবেন, যা কিনা যথেষ্ট।

Processor

Processor একে আবার CPU ( Central Processing Unit)  নামে আখ্যায়িত করা হয়।

যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে একটি CPU থাকে এবং যত হিসাব-নিকাস সবকিছু এই CPU তে সম্পন্ন হয়।

বর্তমান সময়ে বাজারের সেরা CPU নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে : Snapdragon,  Exynos (Samsung), Mediatek এই কোম্পানিগুলো ইলেকট্রনিক চিপ বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে Snapdragon এর 8nm, 7nn, 5nm(5G) প্রসেসর সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করছে। তবে গেমিং মোবাইল কিনতে গেলে অবশ্যই আপনার ফোনের প্রসেসর হতে হবে কমপক্ষে 7nm এবং 8 Core বিশিষ্ট। যদিও 5nm প্রসেসর ৫জি প্রসেসর তাই এই প্রসেসর মিড বাজেটের মোবাইল ফোনে এখনো ব্যবহার শুরু হয়নি।

যদি ফোনের Internal Storage, RAM  এর পরিমাণ বেশি হয় তবেই একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন processor সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে।

Powerful Processor হচ্ছে একটি মোবাইল ফোনের গেমিং ফোন হয়ে উঠার ৩য় শর্ত

Display

মোবাইল ক্ষমতা সম্পন্ন হোক না কেন, ভালো Display ব্যতীত আপনি ভালো একটি গ্রাফিক্স এ গেম খেলতে বা উপভোগ করতে পারবেন না। তাই গেমিং ফোনের Display অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

বাজারে বিভিন্ন রকম Touch Screen Display পআওয়া যায়। যেমনঃ LCD, IPS LCD, AMOLED,  Super AMOLED, OLED, Ultra AMOLED

তবে এসকল display এর মধ্যে AMOLED,  Super AMOLED, OLED, Ultra AMOLED ডিসপ্লে  সবচেয়ে ভালো এবং এসকল স্ক্রিনে Visual Experience হয় অসাধারণ।

সেই সাথে ডিসপ্লে এর refresh rate অর্থাৎ প্রতি সকেন্ডে স্ক্রিনে থাকা উপাদান প্রতি সেকেন্ডে কতবার আপডেট হবে। এই রিফ্রেশ রেট ( Refresh Rate) যত বেশি ফোনের visual হবে তত জীবন্ত। তাই কমপক্ষে 90FPS Refresh Rate থাকলে স্মার্ট ফোনে গেইম খেলে খুব ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

Battery Backup

একটি ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফোনটি কতক্ষণ একটানা চালানো যাবে তা নির্ভর করে মোবাইল ফোনের ব্যাটারির উপর।

তাই গেমিং ফোনের কথা আসলে ব্যাটারি কমপক্ষে ৫০০০ মিলিএম্পিয়ার বা 5000mAh থাকাটা এখন অতি সাধারণ।

Software Optimisation

যেকোনো ডিভাইসের হার্ডওয়্যারকে সঠিকভাবে চালাতে দরকার হয় একটি ভালো সফটওয়্যার এর। কারন সফটওয়্যার যেই তথ্য হার্ডওয়্যারে প্রদান করবে সেই অনুযায়ী হার্ডওয়্যার তা প্রসেসিং করে আবার সফটওয়্যারে ফলাফল পাঠাবে।

যদি ফোনের সফটওয়্যারে সমস্যা থাকে তাহলে হার্ডওয়্যারে সঠিক তথ্য পাঠাতে পারবে না এবং এতে করে আপনার আরো দামি ফোন হলেও তাতে গেমিং সম্ভব না। কারন গেমিং হয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর সঠিক ছন্দে।

এজন্য প্রায় প্রত্যেক মোবাইল কোম্পানি তাদের Operating System প্রতিনিয়ত আপডেট দিয়ে থাকে এবং এতে থাকা সমস্যা দূর করার চেষ্টা করে যাতে করে ব্যবহারকারীদের সেরা সুবিধা দেওয়া যায়।

৩০০০০ টাকার মধ্যে  সেরা ৫ গেমিং মোবাইল ফোন

৩০০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে সেরা ৫ টি মোবাইল ফোন যা কিনা গেমিং এর জন্য Perfect এবং এদের Specifications :

1. Specifications of Poco X3 NFC :

Storage : 64/128GB RAM : 6GB Processor : Qualcomm Snapdragon 732G (8 nm) Display : IPS LCD Touchscreen Battery : 5010 mAh Software : Android 10 Price : 27999 BDT

2. Specifications of Samsung Galaxy A22 :

Storage : 128GB RAM : 6GB Processor : Mediatek Helio G80 (12 nm) Display : Super AMOLED Battery : 5000 mAh Software : Android 11 Price : 21999 BDT

3.Specifications of Samsung Galaxy M32 :

Storage : 128GB RAM : 6GB Processor : Mediatek Helio G80 (12 nm) Display : Super AMOLED Battery : 6000mAh Software : Android 11 Price : 22999 BDT

4. Specifications of Poco X3 Pro :

Storage : 128GB RAM : 6/8 GB Processor : Qualcomm Snapdragon 860 (7 nm) Display : IPS LCD Touchscreen Battery : 5010 mAh Software : Android 11, MIUI 12 Price : 27999 BDT

5. Specifications of Xiaomi Redmi Note 10S :

Storage : 64/128 GB RAM : 6GB Processor : Mediatek Helio G95 (12 nm) Display : AMOLED Touchscreen Battery : 5000 mAh Software : Android 11, MIUI 12 Price : 24999 BDT

বাংলাদেশের বাজারে ৩০০০০ টাকার মধ্যে সেরা গেমিং ফোন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো এই পোস্টে।

যদি আপনার বাজেট ৩০০০০ টাকার মধ্যে হয় তবে এসকল ফোন আপনার গেমিং এর জন্য বেস্ট হবে। সেই সাথে আপনি অন্য যেকোনো বাজেটে আপনার গেমিং ফোন এর Specification কি হতে হবে আশা করি এই পোস্টে আপনি তা নিয়ে একটি পুরো ধারণা পেয়ে গেছেন।