স্মার্ট ফোনে Android অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার ও এর সুবিধা

বর্তমান যুগে প্রায় প্রত্যেকের হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে। আর এই স্মার্ট ফোনের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে।

হিসাব থেকে শুরু করে বিনোদনের উল্লেখযোগ্য মাধ্যমে রুপান্তর হয়েছে এই স্মার্ট মোবাইল ফোন। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি আমাদের মোবাইল ফোন এত বুদ্ধিমান হলো কিভাবে কিংবা এই ছোট্ট একটি যন্ত্র এত সকল কাজ করছে কিভাবে?

আসলে মোবাইল ফোন এসকল কাজ দুটি অংশের মাধ্যমে করে থাকে এক হলো ফোনে থাকা হার্ডওয়্যার এবং অপরটি হলো সফটওয়্যার। এই দুই অংশের মিশেলে একটি স্মার্ট ফোন তার সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকে। এই সফটওয়্যার অংশ খুব গুরুত্বপূর্ণ কারন এই সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন তার হার্ডওয়ার সাথে অপারেট করে থাকে। সেই জন্য অপারেটিং সিস্টেম হতে হবে খুবই উন্নত এবং মানসম্পন্ন।

সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান Google তৈরি করে একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যার নাম দেয়া হয় Android এবং এই অ্যান্ড্রয়েড বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনে সর্বাধিক ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার। এই অপারেটিং সিস্টেমটি মূলত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের Linux Kernel এর সংস্করণ যা মোবাইল ফোনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

Android অপারেটিং সিস্টেম বাজারে ছাড়া হয় 2007 সালে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয় 2008 সালে। বর্তমানে স্যামসাং, শাওমি, রিয়েল মি সহ বিশ্বের অনেক মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই অ্যান্ড্রয়েড এর উপর ভিত্তি করে তাদের মোবাইল ফোনের সফটওয়্যার ডিজাইন করে থাকে।

অপারেটিং সিস্টেম কি?

অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে মূলত একটি সফটওয়্যার বা একাধিক সফটওয়্যার এর সমন্বয় যা দিয়েন মোবাইল তার হার্ডওয়ার অংশের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীকে তার কাংখিত ফলাফল প্রদর্শন করে থাকে।

আমরা যদি আরও সহজভাবে অপারেটিং সিস্টেম কি বোঝার চেষ্টা করি তাহলে আমাদের মানব শরীরের একটি অঙ্গের সাথে এই অপারেটিং সিস্টেমকে তুলনা করা যেতে পারে। মানবদেহের সেই অঙ্গটি হলো মস্তিষ্ক। আমরা যদি মস্তিষ্কের কাজ করার ধরণ পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাব মস্তিষ্ক নিজে কোন কাজ করে না বরং অন্যান্য যেসকল অঙ্গ রয়েছে সে সকল অঙ্গ দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় এবং একটি অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গের সম্পর্ক সার্বক্ষণিক রক্ষা করে থাকে এর ফলে মানব শরীর খুব অনায়াসে যেকোনো ধরনের কঠিন কাজ সহজে করতে পারে।


৩০০০০ টাকায় সেরা ৫ গেমিং ফোন


একইভাবে মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম তার আউটপুট ডিভাইস এবং হার্ডওয়ার যন্ত্রপাতির সাথে সম্পর্ক রক্ষা করেন যখন ব্যবহারকারী কোনো প্রকার আদেশ ইনপুট করে তখন অপারেটিং সিস্টেম সেই অদেশ প্রসেসিং ইউনিট এর নিকট প্রেরন করে এবং সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করে তা আবার আউটপুট করে।

বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

  • Android
  • MiUi
  • OxyGen OS
  • Symbian
  • BlackBerry OS
  • Tizen

এসকল অপারেটিং সিস্টেমের মাঝে Android অপারেটিং সিস্টেম এককভাবে রাজত্ব করে চলছে৷ আজকের এই পোস্টে Android Operating System নিয়ে কিছু আলোচনা হবে।

Android অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাস

Android / এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম হলো এই দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী এই এন্ড্রয়েড এসেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের হাত ধরে ২০০৭ সালে এবং তা প্রথম বাজারজাত করে HTC মোবাইল কোম্পানি ২০০৮ সালে।

২০০৮ থেকে ২০২১ এর সেপ্টেম্বর অবধি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে ১ থেকে ১২ মোট ১২ টি সংস্করণ এসেছে। এসকল সংস্করণ এর আবার বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমনঃ

  • Lolipop
  • Marshmallow
  • KitKat
  • Jelly Bin
  • Oreo

এসকল এন্ড্রয়েড ভার্সন কিংবা সংস্করণ অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এদের সফটওয়্যার কোডিং স্টেবিলিটির জন্য। এছাড়াও অন্যান্য সংস্করণ যথেষ্ট ভালো সাড়া ফেলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে। এতে করে মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই এন্ড্রয়েডকে তাদের ডিভাইসে যুক্ত করতে  আগ্রহ পোষণ করে।

গুগল আগস্ট মাসে তাদের এক বার্তার মাধ্যমে জানায় এন্ড্রয়েড এর ষষ্ঠ সংস্করণ এর নিচের ফোনে এখন থেকে আর গুগলের ফিচার যেমনঃ গুগল ড্রাইভ, মেইল, গুগল ফটো এসকল সুবিধা পাচ্ছে না। তাই সকলকে নতুন সংস্করণ এ আপডেট হবার অনুরোধ করা যাচ্ছে। সেই সাথে গুগলের ১২ তম বিটা সংস্করণ Android 12 Beta version ইতিমধ্যে ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়া হয়েছে।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে Android এর সুবিধা

যদি আমি এককথায় এন্ড্রয়েড এর সবচেয়ে বড় সুবিধা কি তা বলতে যাই তাহলে বলতে হবে এটি গুগল দ্বারা তৈরী যা কিনা এই অপারেটিং সিস্টেম এর সবচেয়ে বড় সুবিধা। আসুন বুঝি কেন গুগলের পন্য হবার কারনে এন্ড্রয়েড এত বড় সুবিধা পাচ্ছে।

গুগল হচ্ছে ২১ শতকের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে লক্ষাধিক সুদক্ষ কর্মী যারা নিরলস প্রচেষ্টা করে তাদের একেকটি সেবা চালু করে থাকে। এজন্য এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে তেমন কোনো সমস্যা কিংবা প্রযুক্তির ভাষায় যাকে Bug বলে তা একেবারে নেই বললেই চলে। এছাড়াও গুগল অনেক সেবা ফ্রিতে দিচ্ছে যেমনঃ গুগল ম্যাপ, গুগল ড্রাইভ, জিমেইল ইত্যাদি।

এসকল সেবা এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা একদম Beta Version থেকে ব্যবহারের সুযোগ পায়। এছাড়া অনেক আপ্লিকেশন প্রতিষ্ঠান শুধু এন্ড্রয়েডকে সেবা দিয়ে থাকে। তাই বলা যায় গুগলের অপারেটিং সিস্টেম হওয়াটাই এন্ড্রয়েড এর সবচেয়ে বড় সুবিধা।

আরো বিশাল ভাবে দেখতে গেলে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এমন একটি OS যাকিনা ব্যবহারকারী ইচ্ছামতো কাস্টোমাইজ করতে পারে। এর থিম, কালার গ্রেডিং, ফন্ট ইত্যাদি অনায়াসে একজন ব্যবহারকারী তার পছন্দমতো করে নিতে পারে। সেইসাথে প্রতিটি মোবাইল কোম্পানি তাদের এন্ড্রয়েড ফোনের Boot Loader আনলক করার সুবিধা দিয়ে থাকে।

যার ফলে একজন ব্যবহারকারী কার ফোনের User Interface নিজের পছন্দসই করে নিতে পারে। এখন ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের UI রয়েছে। কিছু UI গেমিং এর জন্য ভালো, কিছু UI ফটো প্রসেসিং এবং মোবাইল অতিরিক্ত গরম হবার হাত থেকে রক্ষা করে৷ এসকল UI শুধুমাত্র এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরাই নিজের মতো করে নিতে পারবে।

মূলত এন্ড্রয়েড বাজারে আসার পর থেকে অন্য সকল স্মার্ট ফোন অপারেটিং সিস্টেম প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না দিলেই নয়, সেটু হলো একসময়ের মোবাইল ফোনের রাজা Nokia তাদের স্মার্ট ফোনে Microsoft এর অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করায় এন্ড্রয়েড এর সামনে টিকে থাকতে পারেনি।

এতে করে Nokia ২০১৫-২০১৯ এই সময়ে প্রায় হারিয়ে গিয়েছে বললেই চলে। যা কিনা Nokia এর মতো কোম্পানির জন্য আসলেই খুব খারাপ ব্যাপার।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন কেন Android Operating System এতটা সুবিধাজনক, জনপ্রিয় এবং সবাই এন্ড্রয়েড কে কেন এত ভালোবাসে।