Wi-Fi / ওয়াইফাই স্পীড বাড়ানোর ৫ টি কার্যকরী উপায়

ওয়াই-ফাই স্পীড বাড়ানো উপায় হলো রাউটার এবং ডিভাইসের মধ্যে সঠিক দূরত্ব রাখা যেন সিগনাল ভালো পায়। এ ছাড়াও আরো অনেক উপায়ে আপনি আপনার ওয়াই-ফাই স্পীড বাড়াতে পারবেন। নিচে এ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আমরা এখন বাস করছি ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর সময়ে। বর্তমান সময়ে আমরা ইন্টারনেট ব্যতীত একটি মুহূর্ত চিন্তা করতে পারিনা। ইন্টারনেট প্রয়োজন হয় কর্ম ক্ষেত্রে, ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় শিক্ষা ক্ষেত্র,  ইন্টারনেটের দরকার লাগে স্বাস্থ্য সেবায়। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য আমরা বাসায়, অফিসে, স্কুলে যেই ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে থাকি সেই ইন্টারনেট সংযোগকে বলা হয় ওয়াইফাই / Wi-Fi

ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি কাজ করে তরঙ্গের মাধ্যমে, ইন্টারনেট তারের মাধ্যমে আমাদের বাসায় স্থাপিত রাউটারে আসে এবং রাউটার তারের ইন্টারনেটকে তরঙ্গের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা ডিভাইকে ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে থাকে।

যেহেতু ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট তরঙ্গ ভিত্তিক, তাই ঝড়-বৃষ্টি, রাউটার, ডিভাইস সংখ্যা এসকল বিষয় এর স্পিডের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পোস্টে আপনি দেখবেন কিভাবে আপনি আপনার বাসা কিংবা অফিস-স্কুলের ওয়াইফাই এর স্পিড বাড়বেন।

Wi-Fi / ওয়াইফাই কি?

WiFi হলো Wireless Fidelity এর সংক্ষিপ্ত রূপ। সল্প পাল্লায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার  জন্য ওয়াইফাই বহুল প্রচলিত এবং সর্বোওম মাধ্যম। ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ১০০ মিটার অবধি তারবিহীন ভাবে ইন্টারনেট চালানো যায়।

এর জন্য যেকোনো ইন্টারনেট সংযোগ দাতা থেকে আপনাকে মাসিক ভিত্তিতে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হবে এবং একটি রাউটারের মাধ্যমে তা আপনার বাসায়/ অফিসে/ স্কুলে ইন্টারনেট চালু করতে হবে। BTRC এর জরিপ মতে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটির অধিক ব্রডব্যান্ড / ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী রয়েছে এবং সেই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

বাংলাদেশে ওয়াইফাই একই সাথে সহজলভ্য এবং খরচ মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো ডাটা থেকে কম হওয়ায় ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট গ্রাহকদের সংখ্যা এখন শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় বেড়েই চলেছে।

IPS (Internet Service Provider) তাদের সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার কথা চিন্তাা করে
প্রান্তিক পর্যায়ে Cache Server স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, এতে করে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট হচ্ছে আরো দ্রুত এবং যেকোনো তথ্য দ্রুততম সময়ে পেয়ে যাচ্ছে।

BTCL এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

BTCL এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Telecommunication Company Limited 

বাংলাদেশ সরকারের এই সংস্থা দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। BTCL সাড়া দেশে একরেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেশের সকল লোকাল ISP প্রতিষ্ঠানকে এই তথ্য জানিয়ে দেয়।

BTCL এর আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম হলো ঃ

ইন্টারনেটের গতি দাম
৫ Mbps ৫০০ টাকা
১০ Mbps ৮০০ টাকা
২০ Mbps ১২০০ টাকা

ব্রডব্যান্ড এর গতি এখানে Mbps ( Mega Bit Per Second) এ ধরা হয়েছে।

আমরা জানি, ১ মেগাবিট = ১২৮ কিলোবাইট

সেই সূত্র অনুসরণ,

৫ মেগাবিট = ৫*১২৮ = ৬৪০ কিলোবাইট KBPS

১০ মেগাবিট = ১০*১২৮ = ১২৮০ কিলোবাইট বা ১.২৮ মেগাবাইট MBPS

২০ মেগাবিট = ২০*১২৮ = ২৫৬০ কিলোবাইট বা ২.৫৬ মেগাবাইট MBPS

বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট / ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট খরচ ৩০-৪০% কমেছে। যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে।

WiFi ব্যবহার এবং এর পরিচর্যা

ওয়াইফাই যেহেতু ইলেকট্রনিক পন্য, তাই এর সঠিক পরিচর্যা না নিলে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহারে নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে পারেন। যেমনঃ ব্রাউজিং এ সঠিক গতি না পাওয়া, প্যাকেট লস, রাউটার বার বার অন-অফ হওয়া, বজ্রপাতে রাউটার নষ্ট হয়ে যাওয়া, ডিভাইসে ওয়াইফাই কানেকশন না পাওয়া সহ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

তাই ওয়াইফাই খুব সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। যেভাবে আপনি আপনার ওয়াইফাই এর পুরো স্পিডের মজা নিবেন ঃঃ

  1. ভালো রাউটার ব্যবহার করা
  2. রাউটার সঠিক স্থানে স্থাপন করা
  3. রাউটার পরিষ্কার রাখা
  4. প্যাকেট লস নিয়ন্ত্রণ করা
  5. ISP প্রদত্ত ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার করা

এই ৫ পয়েন্ট সঠিক ভাবে মানলে আপনি আপনার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এর পুরো স্পিড পাবেন। এসকল পয়েন্ট নিয়ে নিচে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ভালো রাউটার ব্যবহার করা

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন আমাদের বাসা কিংবা অফিসে তারের মাধ্যমে আসে এবং রাউটারের মাধ্যমে তা বৈদ্যুতিক রূপ থেকে ব্যবহার উপযোগী ইন্টারনেট তরঙ্গের রূপ পায়।

তাই ওয়াইফাই এর সঠিক গতি উপভোগ করতে একটি ভালো মানসম্মত রাউটার নিতে হবে সেই সাথে আপনার বাছাইকৃত রাউটারের কাভারেজ নিয়ে আপনার ধারণা থাকতে হবে। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির রাউটার পাওয়া গেলেও Tenda, TP-Link, Asus এর রাউটার খুব ভালো কাজ করে। এসকল কোম্পানি বিভিন্ন বাজেটের রাউটার বানিয়ে থাকে। আপনার পছন্দমত বাজেটে ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা অবধি এসকল কোম্পানির রাউটার বাজারে কিনতে পেয়ে যাবেন।

যদি বাজেট খানিকটা ভালো হয় তবে চেষ্টা করভেন ২০০০ টাকার উপরের রাউটার কিনতে এতে করে আপনি ওয়াইফাই কাভারেজ এবংং কানেকশন উভই ভালো পাবেন।

সঠিক স্থানে রাউটার স্থাপন

রাউটার ইন্টারনেট তরঙ্গ বাতাসে ছড়িয়ে দেয় তাই রাউটার স্থাপনের সময় স্থান বাছাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।যদি রাউটার সঠিক জায়গায় স্থাপন করেন তবে আপনার পুরো বাসায় দ্রুত গতির ইন্টারনেট প্রদানে সক্ষম হবে।

এর জন্য রাউটার মেশিনটিকে অবশ্যই উচুতে স্থাপন করতে হবে এবং ঘরের মাঝ বরাবর স্থাপন করতে হবে। এতে করে ঘরের সকল কোনায় সঠিক মাত্রার তরঙ্গ পৌছাবে এবং ইন্টারনেট হবে উপভোগ্য।

রাউটার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা

রাউটারের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি বাহ্যিক, অন্যটি রাউটারের Local Host এর পরিচ্ছন্নতা।

রাউটারের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ঃ আপনার রাউটারকে পরিষ্কার, খোলা মেলা পরিবেশে রাখতে হবে। প্রতিদিন এর ধুলাবালি পরিষ্কার করতে হবে। রাউটারে কোনো ভাবে যেন পানি প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

রাউটারের Local Host পরিচ্ছন্নতা ঃ এটি হলো রাউটারের সফটওয়্যার পরিষ্কার করার উপায়। প্রতিটি রাউটারে তার নিজস্ব এডমিন প্যানেল রয়েছে। সেই এডমিন প্যানেল প্রতি মাসে একবার করে Reset করলে রাউটারে জমে থাকা ক্যাশ ফাইল মুছে যায় এবং রাউটারের কাজের ক্ষমতা বাড়ে।

প্যাকেট লস

প্যাকেট লস প্রতিটি ISP এর এক অনন্য সমস্যা। এর অন্যতম কারন হলো প্রত্যেক ইন্টারনেট সংযোগ দাতা চায় সে যেন অল্প খরচে তার সেবা আপনার বাসায় দিতে পারে। এর জন্য সে অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ তার দিয়ে আপনার বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে থাকে।

এতে করে আপনি ওয়াইফাই ব্যবহার করে ক্লাউড সার্ভারে যে পরিমাণ অনুরোধ প্রেরন করেন সেই পরিমাণ তথ্য আপনার ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে আসে না। এজন্য আপনার ISP কি পরিমাণ তার ব্যবহার করছে, তারে কোনো ত্রুটি আছে কিনা সংযোগের সময় সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিবেন। নয়তো পরবর্তীতে ভিষণ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে পারেন।

ISP প্রদত্ত ইন্টারনেট প্রোটোকল ব্যবহার

Internet Protocol / IP হচ্ছে প্রতিটি ইন্টারনেট সেবাদাতা বা ISP এর একটি ইউনিক আইডেনটিটি। এর আলাদা পরিচয়ের মাধ্যমে ক্লাউড স্টোরেজ আপনার ISP এর নিকট আপনার করা রিকোয়েস্ট এর তথ্য প্রেরণ করে এবং পরে সেই তথ্য আপনার ISP আপনার রাউটারে ব্যবহার করে Username এ প্রেরণ করে দেয়।

প্রতিটি ইন্টারনেট সেবাদাতার একটু নিজস্ব IP Address থাকে। বিভিন্ন এলাকার লোকাল ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের আইপি বিভিন্ন হয়, তাই আপনার এলাকায় বিভিন্ন ISP এর ইন্টারনেট প্রোটোকল এড্রেস বিভিন্ন  হতে পারে আপনার এলাকার লোকাল ISP এর ip address

এই আইপি ব্যবহার করলে আপনার ওয়াইফাই স্পিড বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আপনার আইএসপি এর আইপি এড্রেস ব্যবহার এর ফলে আপনি পাবেন আপনার ইন্টারনেট এর সঠিক স্পিড। আর এভাবে আপনি আপনার রাউটারের স্পিড বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

 

এই ৫ টিপস ব্যবহার করে আপনিও আপনার ওয়াইফাই স্পিড এর উঠানামা থেকে মুক্তি পাবেন এবং পাবেন বাফারিং ফ্রি এক ইন্টারনেট কানেকশন। সেই সাথে আপনার ইন্টারনেট বিচরণ হবে মজাদার এবং পানির ন্যায় স্বচ্ছ।

আশা করি এসকল ঘরোয়া উপায়ের কোনো না কোনো একটি আপনার WiFi স্পিড বাড়াতে কাজে আসবে।